ট্রাংক কেটে প্রশ্নপত্র চুরি, কর্মকর্তার চেম্বারেই ফটোকপি; অন্তর্বাসে করে পাচারের অভিযোগ

ঢাকা: সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ৫৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১৮ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা এ অভিযোগপত্র জমা দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার ৫৫ আসামির মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৩৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং ১৯ জন পলাতক রয়েছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ৯ জুলাই পল্টন থানায়।

সিআইডির তদন্তে প্রশ্নপত্র চুরির একটি কৌশল হিসেবে পিএসসির অফিস সহায়ক মো. সাজেদুল ইসলামের ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। তদন্ত নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ পরীক্ষার আগে পিএসসির এক কর্মকর্তার চেম্বারে ঢুকে হ্যাকসো ব্লেড দিয়ে একটি ট্রাংকের তালা কেটে প্রশ্নপত্র বের করা হয়। পরে ওই চেম্বারে থাকা ফটোকপি মেশিনেই প্রশ্নপত্রের কপি করা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত অনুযায়ী, মূল প্রশ্নপত্রগুলো আবার ট্রাংকে রেখে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে বাইরে থেকে বিষয়টি সহজে বোঝা না যায়। পরে প্রশ্নগুলো বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে অল্প অল্প করে কম্পোজ করানো হয় বলে তদন্তে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী পরীক্ষার চার সেট প্রশ্নপত্র থেকে মোট ৮০০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন সংগ্রহ করা হয়েছিল। এসব প্রশ্ন পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের আরেকটি ধাপ হিসেবে সরকারি বিজি প্রেসের কয়েকজন কর্মীর ভূমিকার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ছাপা ও প্যাকেট করার সময় সেগুলোর ছবি তোলা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র শরীরে লুকিয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সিআইডির তদন্তে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনকেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেটওয়ার্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মামলার আরেক আসামি মো. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০১২ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

তদন্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থ লেনদেনের তথ্যও উঠে এসেছে। বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও প্রার্থীদের কাছে সরবরাহের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে একাধিক আসামির বিরুদ্ধে।

সিআইডির অভিযোগপত্রে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সরকারি কর্ম কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাবেক কর্মচারী এবং বাইরে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তির নাম রয়েছে।

তবে অভিযোগপত্রে থাকা তথ্য তদন্ত সংস্থার অভিযোগ ও আদালতে উপস্থাপিত নথির অংশ। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো আসামিকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *