মাদ্রাসায় নিজে ক্লাস না করে মামাকে দিয়ে পাঠদান, বেতন ভাগাভাগির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশকাল: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থেকেও নিজে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে মামাকে দিয়ে ক্লাস করানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাফিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসায় নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও তিনি বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। তাঁর পরিবর্তে ক্লাস নেওয়া ব্যক্তিকে বেতনের একটি অংশ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

অভিযুক্ত নাফিউল ইসলাম জীবন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২৫ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।

২০২৫ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগদান

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাঘা উপজেলার পারসওতা হযরত শাহ সুফি বাঘু দেওয়ান (রহ.) আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন নাফিউল ইসলাম জীবন। তবে যোগদানের পর থেকে তিনি নিজে নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে আসমত আলী নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে পাঠদান করিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আসমত আলী সম্পর্কে তাঁর আপন মামা।

বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বজলুল করীম জানান, মাস্টার্স সম্পন্ন না হওয়ার কারণ দেখিয়ে জীবন অন্য একজনকে দিয়ে ক্লাস করানোর অনুমতি চেয়েছিলেন। নিয়মের বাইরে হলেও পরিচালনা কমিটি বা স্থানীয় পর্যায় থেকে বাধা না আসায় শুরু থেকেই এভাবে পাঠদান চলছিল বলে তিনি জানান।

বেতনের অর্ধেক দেওয়ার কথা স্বীকারের দাবি

এ বিষয়ে নাফিউল ইসলাম জীবনের বক্তব্যে বলা হয়েছে, মাস্টার্স শেষ না হওয়া এবং রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে তিনি অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প ব্যবস্থায় তাঁর মামাকে দিয়ে ক্লাস করাচ্ছিলেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নেওয়ার বিনিময়ে বেতনের অর্ধেক আসমত আলীকে দেওয়া হতো এবং বাকি অর্ধেক তিনি নিজে রাখতেন বলে জীবন জানিয়েছেন। বিষয়টি পুরোপুরি বৈধ নয় এবং গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তিনি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ ব্যবস্থার বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছিল কি না, নিয়োগের শর্ত কী ছিল এবং বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ইউএনওর

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তকী ফয়সাল তালুকদার জানিয়েছেন, প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন

শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিয়মিত পাঠদান, উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিক্ষক নিজে দায়িত্ব পালন না করে অন্য কাউকে দিয়ে পাঠদান করালে তা প্রতিষ্ঠানের বিধিমালা ও নিয়োগের শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রশাসনিক তদারকি, শিক্ষক নিয়োগের শর্ত এবং বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত, প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র এবং প্রযোজ্য বিধিমালা পর্যালোচনা করা জরুরি।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। এ বিষয়ে তদন্তের ফলাফল ও কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।

সূত্র: সরবরাহ করা সংবাদতথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের বিবরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *