
প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কক্সবাজারের মহেশখালীর সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুর রহমান উপসচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রথম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ শাখা-১ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর পদোন্নতির বিষয়টি জানা গেছে। তাঁর এই পদোন্নতির খবরে মহেশখালীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মাহফুজুর রহমান মহেশখালীতে ইউএনও হিসেবে প্রায় ১৪ মাস দায়িত্ব পালন করেন। অল্প সময়ের এই কর্মকালেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কারণে তিনি স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
গণশুনানিতে সরাসরি মানুষের কথা শুনতেন
সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন করতেন তিনি। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি তাঁর কাছে নিজেদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরার সুযোগ পেতেন।
এ ছাড়া সরকারি মোবাইল নম্বরও সাধারণ মানুষের জন্য খোলা রাখতেন তিনি। ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতেন।
পাহাড় কাটা ও প্যারাবন রক্ষায় অভিযান
মহেশখালীর পরিবেশ রক্ষায়ও বিভিন্ন উদ্যোগ নেন তিনি। অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ এবং উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ প্যারাবন রক্ষায় একাধিক অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথের গুরুত্বপূর্ণ মহেশখালী ঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন তিনি।
শিশুপার্ক ও পর্যটন উন্নয়নে উদ্যোগ
শিশুদের বিনোদন ও মানসিক বিকাশের কথা বিবেচনা করে প্রায় চার একর সরকারি জমি দখলমুক্ত করে সেখানে শিশুপার্ক তৈরির উদ্যোগ নেন মাহফুজুর রহমান। প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে পার্কটি গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়।
এ ছাড়া মহেশখালীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরতে ‘মোহনীয় দ্বীপ মহেশখালী’ নামে একটি ব্র্যান্ডিং বই প্রকাশ করেন।
উপজেলা পরিষদ চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা এবং সাধারণ মানুষের বসার পরিবেশ তৈরিতেও তিনি উদ্যোগ নেন।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও দুর্যোগে মানুষের পাশে
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। বাল্যবিবাহের খবর পেলে রাতেও ঘটনাস্থলে গিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন উদ্ধার কার্যক্রমেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সোনাদিয়া চ্যানেলে দুর্ঘটনার শিকার পর্যটকদের উদ্ধারে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি।
এর পাশাপাশি মহেশখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে সক্রিয় করা এবং ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ প্রকল্প বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখেন।
বদলির পরও যোগাযোগ রয়েছে মহেশখালীর মানুষের সঙ্গে
মহেশখালী থেকে বদলি হয়ে যাওয়ার পরও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
মাত্র ১৪ মাসের কর্মকালেই বিভিন্ন জনবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কাছে জায়গা করে নেওয়া এই কর্মকর্তার উপসচিব পদে পদোন্নতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন মহেশখালীর সচেতন নাগরিকরা।
তাঁরা মনে করছেন, এই পদোন্নতি তাঁর কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার একটি স্বীকৃতি। একই সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন মহেশখালীর বাসিন্দারা।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©
Disclaimer: The information published by Shaplapur News is collected from available sources and is published in good faith for public interest. Allegations mentioned in any report are presented as allegations and do not constitute a final determination of guilt. Shaplapur News does not intend to defame or harm the reputation of any individual, organization, or institution. If any information is found to be inaccurate or requires correction, please contact us for appropriate review and correction.
© 2026 Shaplapur News. All Rights Reserved.


