
প্রকাশের তারিখ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | রবিবার | রাত ৮:১৪ মিনিট
মোবাইলে অনলাইন জুয়ার অ্যাপস পাওয়া গেলেই গ্রেপ্তার করা হবে—এমন কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন কক্সবাজারের মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সুলতান। অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মহেশখালীতে অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন জুয়ার অ্যাপস ব্যবহার, সংরক্ষণ কিংবা এর মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে রয়েছে। ওসি আব্দুস সুলতানের এমন ঘোষণার পর স্থানীয়ভাবে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বিভিন্ন অনলাইন ক্যাসিনো, বেটিং ও জুয়ার প্ল্যাটফর্মে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায়। অল্প সময়ে বেশি টাকা আয়ের প্রলোভনে অনেক তরুণ এসব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন। শুরুতে ছোট অঙ্কের অর্থ দিয়ে খেলা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে অনেকে বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অনলাইন জুয়া শুধু ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়; এর সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেন ও বিভিন্ন অপরাধের যোগসূত্রও তৈরি হতে পারে। এ কারণে জুয়ার অ্যাপ ব্যবহার ও এর মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মহেশখালী থানার পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের মূল লক্ষ্য হিসেবে তরুণ সমাজকে অনলাইন জুয়ার আসক্তি থেকে রক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের কার্যক্রমের বিস্তার ঠেকানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকেও অনলাইন জুয়ার কোনো প্ল্যাটফর্মে যুক্ত না হওয়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে। সিআইডি ও গোয়েন্দা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিভিন্ন সময়ে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের তথ্য যাচাই করছে।
তবে মোবাইলে কোনো অ্যাপ পাওয়া গেলেই গ্রেপ্তার বা শাস্তির বিষয়টি কোন নির্দিষ্ট আইনের কোন ধারায় প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্তভাবে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনলাইন জুয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আইনগত তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, যার সবগুলো নির্ভরযোগ্য নয়।
মহেশখালী থানার ওসির এই ঘোষণার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করা, পরিবারকে নজরদারি বাড়ানো এবং জুয়ার প্ল্যাটফর্মের প্রচার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াও জরুরি।
পুলিশের এই কঠোর অবস্থান কতটা কার্যকর হয় এবং মহেশখালীতে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©shaplapur news.com


