প্রকাশকাল: ৩ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:৪৩ মিনিট
স্টাফ রিপোর্টার | শাপলাপুর নিউজ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম হয়েছে। দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত এক প্রবাসী প্রথম স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করে তাকে সঙ্গে নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার পর ক্ষোভে তার বসতঘর ও বাড়ির বিভিন্ন স্থাপনা এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা ওই প্রবাসীর দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সদস্য বলে স্থানীয়দের দাবি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
রোববার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের বিষয়ে অবগত হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, খেজুরতলা গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে রফিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন। বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি একই গ্রামের সহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। পরে রফিউদ্দিন বিদেশে থাকাকালে ছনিয়া খাতুনের সঙ্গে এক ইতালি প্রবাসীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, পরবর্তীতে তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গে চলে যান।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে স্থানীয়ভাবে সালিশ এবং থানার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছনিয়া খাতুন ইতালি প্রবাসীর সঙ্গেই বসবাস শুরু করেন বলে জানা যায়।
এরপর দেশে ফিরে নতুনভাবে সংসার শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন রফিউদ্দিন। তিনি একই গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। প্রায় এক বছর দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সংসারও করেন।
কিন্তু কিছুদিন পর পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রফিউদ্দিন পুনরায় প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং পরে তাকে আবারও স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে ঘরে তোলেন। কিছুদিন পর প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই আবার মালয়েশিয়ায় চলে যান।
রফিউদ্দিনের এই সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাদের অভিযোগ, রিমার ভবিষ্যৎ, সামাজিক মর্যাদা ও দাম্পত্য জীবনের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে রিমা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তার পরিবারও ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, রোববার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা একটি মাটি কাটার এক্সকাভেটর (ভেকু) নিয়ে রফিউদ্দিনের বাড়িতে যান। এরপর তারা বসতঘরসহ বাড়ির বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বাড়ির বড় একটি অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ঘটনার সময় রফিউদ্দিন দেশে ছিলেন না। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।
ভাঙচুরের ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের ভয়াবহ পরিণতি হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকের মতে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা পারিবারিক বিরোধ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন মেম্বার বলেন, “মুকুল হোসেনের মেয়েটি খুবই ভদ্র ও অমায়িক। একটি মেয়ের জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা রফিউদ্দিনের উচিত হয়নি। তবে ক্ষোভের বশে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর না করে আইনের আশ্রয় নিলে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হতে পারত।”
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরায়েল বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পারিবারিক বিরোধ, দাম্পত্য কলহ কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষোভ—যে কারণেই বিরোধ সৃষ্টি হোক না কেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় এখনো আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


