শাপলাপুর নিউজ ডেস্ক | শরীয়তপুর | ৩ আগস্ট ২০২৬ | সোমবার

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আলোচিত এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ আগস্ট) রাতে পূর্বপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি ওই নারীর স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাকে উপজেলার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তাকে দিয়ে মোবাইল ফোনে তার স্ত্রীকে সেখানে আসতে বলা হয়। নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তরা তাকে একটি গাছের আড়ালে নিয়ে যায়। সেখানে দুই ব্যক্তি জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। তিনি বাধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাণভিক্ষা চাইলেও অভিযুক্তরা তা উপেক্ষা করে।
তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। পরে নড়িয়া থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ভোরের দিকে ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে রাব্বি (২৮), হজরত আলী খন্দকার (৪২) ও ইমন খন্দকার (২৬) নামে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ভুক্তভোগীর স্বামীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের মাদক বিক্রি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। তবে এই বিরোধের সঙ্গে অভিযোগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিতু আক্তার জানান, ভুক্তভোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তার সোয়াব ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী জানান, রাতে ফোন পেয়ে তিনি নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে নির্ধারিত স্থানে যান। সেখানে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, তার স্বামীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। পরে তাকে জোর করে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


