প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬ | রবিবার | সকাল ১০:৩৫ মিনিট

শাপলাপুর নিউজ ডেস্ক:
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় গভীর রাতে এক তরুণীর বাড়িতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের এক জেলা নেতার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলে তাকে আটক করা হয়। পরে দুই পরিবারের সম্মতি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় ওই তরুণীর সঙ্গে ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোলদহ (সৈয়দপুর) গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিলের বাড়িতে যান ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মাহ্ফুজ সরকার রাকিব। গভীর রাতে তার উপস্থিতি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে তাকে সেখানে আটকে রেখে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়।
দীর্ঘ আলোচনার পর আব্দুল জলিলের মেয়ে জুই আক্তারের সঙ্গে মাহ্ফুজ সরকার রাকিবের ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার খবর দ্রুত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্র ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা ধরনের মন্তব্যও উঠে আসে।
তবে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন মাহ্ফুজ সরকার রাকিব। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগের রাতে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে কনের বাড়িতে বিয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছিল এবং তিনি সেই কারণেই সেখানে অবস্থান করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো সম্পূর্ণ ঘটনার প্রতিফলন নয়; বরং খণ্ডিত অংশ প্রচার করে তার ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা শালু জানান, মাহ্ফুজ সরকার রাকিব ও জুই আক্তারের মধ্যে আগে থেকেই পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল। গভীর রাতে এলাকাবাসীর হাতে আটকের পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা হয় এবং পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে শুক্রবার তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি দাবি অব্যাহত রয়েছে। একদিকে স্থানীয়দের বক্তব্য, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট নেতার দাবি—দুই পক্ষের বর্ণনায় স্পষ্ট পার্থক্য থাকায় প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বক্তব্য না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আমার দেশ ও স্থানীয় সূত্র।


