
প্রকাশকাল: ১৫ অক্টোবর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি সিয়ামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তদন্ত শেষে দুদক তাঁর জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়।
২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন এ মামলা করেন। একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে ১৭ জুন আদালত তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এতে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে সিয়াম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। ৩০ সেপ্টেম্বর দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রায় ঘোষণা করেন।
একসময় ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা
সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর আগের একটি পোস্টেও ছাত্রলীগের ওই পদে দায়িত্ব পালনের পরিচয় পাওয়া যায়। পোস্টটিতে তিনি নিজেকে ‘ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ’ হিসেবে উল্লেখ করে তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শামীমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।
আদালতের এ রায়ের ফলে আবেদ আলী জীবনের ছেলে সিয়ামের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো।



