৫ বছরের প্রেমের পর বিয়ে, ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে বিপাকে: শাপলাপুরের শাহেদ মোবারকের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | শাপলাপুর, মহেশখালী

প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে। এরপর কেটে গেছে কয়েক মাস। বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা শারমিন সিদ্দিকার অভিযোগ, দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই তাঁকে অপমান ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এমনকি তাঁর অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি শঙ্কিত। এ ঘটনায় স্বামী শাহেদ মোবারক ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

ঘটনাটি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুখবেকী এলাকার বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শারমিন সিদ্দিকার দাবি, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ে করলেও স্বামীর পরিবারের কাছ থেকে তিনি প্রত্যাশিত স্বীকৃতি ও সহযোগিতা পাননি। বরং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তাঁকে হেয় করা হতো বলে অভিযোগ তাঁর।

পাঁচ বছরের সম্পর্কের পর বিয়ে

অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ আগস্ট মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী এলাকার দরবেশকাটা ও পশ্চিম বড় ভেওলার মধ্যবর্তী এলাকার একটি কাজি কার্যালয়ে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

বিয়েতে দেনমোহর ছয় লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে তিন লাখ টাকা তাৎক্ষণিক দেনমোহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্যে জানা যায়। বিয়ের কাবিননামায় কাজি হিসেবে আবদুল্লাহ আল মাহদির নাম এবং সাক্ষী হিসেবে হাসিনা বেগম ও মোহাম্মদ রুবেলের নাম উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারী।

নির্যাতন ও অপমানের অভিযোগ

শারমিন সিদ্দিকার অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁকে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হতো। বিভিন্ন সময় অপমান ও মারধরের শিকারও হয়েছেন বলে দাবি তাঁর।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে তাঁকে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে চিকিৎসার পরিবর্তে হোটেলে সময় কাটানোর পর তাঁকে একা ফেলে চলে যান স্বামী শাহেদ মোবারক—এমন অভিযোগও করেছেন তিনি।

বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা শারমিন সিদ্দিকার অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁকে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হতো। বিভিন্ন সময় অপমান ও মারধরের শিকারও হয়েছেন বলে দাবি তাঁর।

রমিনের দাবি, তাঁর অনাগত সন্তানকে নষ্ট করার জন্য স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

থানায় অভিযোগ, বিচার চেয়েছেন সংসদ সদস্যের কাছে

ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মহেশখালী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বাদী হিসেবে শারমিন সিদ্দিকার অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁকে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হতো। বিভিন্ন সময় অপমান ও মারধরের শিকারও হয়েছেন বলে দাবি তাঁর।

রমিন সিদ্দিকার নাম উল্লেখ রয়েছে। তাঁর বাবার নাম শামসুল আলম বলে জানানো হয়েছে।

অভিযোগে স্বামী শাহেদ মোবারক, তাঁর বাবা শহিদুল্লাহ এবং পরিবারের আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগে উল্লিখিত প্রত্যেক ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা ও দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া শারমিন সিদ্দিকার অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁকে দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হতো। বিভিন্ন সময় অপমান ও মারধরের শিকারও হয়েছেন বলে দাবি তাঁর।

রমিন সিদ্দিকা স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের কাছে বিচার চেয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্য বিষয়টি নিয়ে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সুলতানের সঙ্গে কথা বলেন এবং শাহেদ মোবারককে থানায় হাজির করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য, পুলিশ কিংবা অভিযুক্ত পরিবারের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অনাগত সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর জন্য এ সময় শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখা, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দাম্পত্য বিরোধ কিংবা পারিবারিক আর্থিক অবস্থান কোনো নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার কারণ হতে পারে না। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরাও জরুরি।

প্রশ্ন উঠছে—দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হওয়ায় কি একজন নারীকে তাঁর অধিকার ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হতে হবে? অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা এবং অনাগত সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

প্রতিবেদকের নোট: এ প্রতিবেদনটি অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য, থানায় অভিযোগ গ্রহণের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *