প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২৬ | শনিবার | রাত ১:২৩ মিনিট | কক্সবাজার প্রতিনিধি:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইয়াবাসহ আটক হওয়া ব্যক্তি টেকনাফ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা। তবে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, ইয়াবাসহ আটক হওয়া হাফেজ উল্লাহ টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
জানা যায়, গত ২৪ জুলাই শুক্রবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ইনানী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় পৌঁছালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে বাসের এক যাত্রীর কাছ থেকে ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানানো হয়েছে। অভিযানে আটক করা হয় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাফেজ উল্লাহকে।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার
ঘটনার পরপরই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়, আটক ব্যক্তি নাকি টেকনাফের একজন জামায়াত নেতা। কিন্তু এ দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।
বরং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হাফেজ উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়কে বিকৃত করে সামাজিক মাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তথ্য যাচাইয়ে উঠে এসেছে।
আগেও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার
এটি হাফেজ উল্লাহর বিরুদ্ধে প্রথম মাদক মামলা নয়। এর আগে ২০২৩ সালেও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় র্যাব-৭ এর অভিযানে ৫ হাজার ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সে সময়ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁকে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে এটি তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগের দ্বিতীয় আলোচিত ঘটনা।
টেকনাফ এখনো ইয়াবা পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম ইয়াবা পাচারের রুট হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পরও সীমান্ত ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
চলতি বছরেও কোস্ট গার্ড, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনী টেকনাফে একাধিক বড় অভিযান পরিচালনা করেছে। মে মাসে কোস্ট গার্ড ১৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে এবং জুন মাসে পৃথক অভিযানে ২১ হাজার পিস ইয়াবা জব্দের তথ্য প্রকাশ করে। এসব অভিযান থেকে বোঝা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ অঞ্চল এখনো মাদক কারবারিদের সক্রিয় রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
উপসংহার
তথ্য যাচাইয়ে দেখা যাচ্ছে, হাফেজ উল্লাহকে ‘জামায়াত নেতা’ হিসেবে প্রচার করার দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং পূর্ববর্তী গ্রেপ্তার, বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী তিনি টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। তাই সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তা যাচাই করা প্রয়োজন।



