
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। ইসলামী শিক্ষা ও কোরআনবিষয়ক গবেষণায় তাঁর একাধিক একাডেমিক কাজও প্রকাশিত হয়েছে।
অনলাইনে পাওয়া একাডেমিক তথ্য অনুযায়ী, মিজানুর রহমান আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের Institute of Social Sciences-এর Faculty of Theology-এর Department of Tafsir-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল বাংলায় কোরআন অনুবাদসংক্রান্ত গবেষণা। ২০২১ সালে আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পিএইচডি থিসিস সম্পন্ন হওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়।
কোরআনবিষয়ক গবেষণার পাশাপাশি তাঁর লেখা বিভিন্ন গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক একাডেমিক প্রকাশনায় প্রকাশিত হয়েছে। ২০২২ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বাংলাদেশের কোরআন গবেষণায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। ওই গবেষণাপত্রে তাঁকে আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাফসির বিভাগের ডক্টর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরেকটি গবেষণাপত্রে বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ে বাংলায় কোরআনের অনুবাদ নিয়ে মূল্যায়ন করেন মিজানুর রহমান। সেখানেও তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অনুষদ ও তাফসির বিভাগের উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবদুর রশিদ নামের একটি আইডিতে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ স্মৃতিচারণামূলক পোস্টে মিজানুর রহমানের ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টে দাবি করা হয়, ২০১৩-১৪ সালের দিকে ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের মুক্তির দাবিতে পোস্টার লাগানোসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মিজানুর রহমান ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী অংশ নিয়েছিলেন।
ওই স্মৃতিচারণায় আবু ছালেহ মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, অলিউল্লাহ মোকাদ্দিসসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, সে সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের মুক্তির দাবিতে রাতের বেলায় পোস্টার লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
স্মৃতিচারণায় আরও বলা হয়, পোস্টার লাগানোর আগে কয়েকজন তরুণ একত্র হয়ে রাত ৩টার দিকে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তির জন্য দোয়া করেন। পরে ফজরের নামাজের আগে তাঁরা বাজার এলাকায় পোস্টার লাগানোর কাজ শেষ করেন বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
ওই লেখায় আশিক ইবনে ইয়াকুবের নামও এসেছে। লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, আশিক ইবনে ইয়াকুব ছিলেন তাঁর সমসাময়িক দায়িত্বশীল ও বন্ধু। সেই সময়কার নানা ঘটনা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তাঁদের একসঙ্গে থাকার এবং রাতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরা হয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ঘটনার বিবরণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্মৃতিচারণা ও দাবির ভিত্তিতে এসেছে। এসব দাবির স্বাধীন যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে মিজানুর রহমানের পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাঁর একাডেমিক গবেষণা। কোরআনের বাংলা অনুবাদ ও বাংলাদেশে কোরআনচর্চার ইতিহাস নিয়ে তাঁর গবেষণাকর্ম বিভিন্ন একাডেমিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে। আঙ্কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর গবেষণাসংশ্লিষ্টতার তথ্যও এসব প্রকাশনায় পাওয়া যায়।
একসময়কার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতির পাশাপাশি বর্তমানে আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিসরে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে মিজানুর রহমানের পথচলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।



