
মাতামুহুরী ডেস্ক :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসান (২৭) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার গভীর রাতে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোটনী এলাকার সাবের সদরের দোকানের সামনে থেকে তাকে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
পরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী-কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে জিসানকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইসফাতুল ইসলাম জিসান কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ মহাসড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার গভীর রাতে কাকারা সাবের সদরের দোকানের সামনে অবস্থানকালে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন ব্যক্তি জিসানকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পর স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর খুটাখালী-কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকায় মহাসড়কের পাশে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ইসফাতুল ইসলাম জিসানের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জিসানকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করা হলেও, এর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি জানানো হয়েছে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
তবে জিসানকে কারা এবং কী কারণে অপহরণ করে নিয়ে গেছে, কিংবা পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী কোথায় ও কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।


