
ছবি: রশিদিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা
দুই বছরের হতাশা পেছনে ফেলে মহেশখালীতে সেরা পাঁচে রশিদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা
প্রকাশকাল: ১১ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের রশিদিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা গত দুই বছরের হতাশাজনক ফলাফলের পর এবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাফল্য দেখিয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা, নিয়মিত তদারকি এবং পাঠদানে বাড়তি গুরুত্বের সুফল মিলেছে এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলে। প্রতিষ্ঠানটি এবার মহেশখালী উপজেলা পর্যায়ে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে।
এবারের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৬ জন কৃতকার্য এবং ৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে মাদ্রাসাটির সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
গত দুই বছরের ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে পাঠদানে পরিবর্তন আনা হয়। পাশাপাশি নিয়মিত পরীক্ষা, ব্যক্তিগত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগের ফলে এবারের ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
মাদ্রাসা প্রধান জানান, আগের দুই বছরের ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা ছিল। এরপর শিক্ষার্থীদের কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবার কাঙ্ক্ষিত ফলের দিকে অগ্রগতি হয়েছে। তবে জিপিএ-৫ না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে। ভবিষ্যতে পাসের হার বাড়ানোর পাশাপাশি জিপিএ-৫ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
অভিভাবকরাও এবারের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, আগের দুই বছরের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও শিক্ষক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই এবার প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে সেরা পাঁচে জায়গা করে নিতে পেরেছে।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকরা জানান, যারা এবার অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি আগামী দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকেই বিশেষ প্রস্তুতি ও পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
ভবিষ্যতে শতভাগ পাসের পাশাপাশি মহেশখালী উপজেলার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকরা।
